Drug Rules and Regulations
Drug Rules and Regulations. Hotline 01969947171, Mobile Phone 01797522136. Drug rules and regulations are the legal frameworks, guidelines, and standards implemented by government authorities to control the development, manufacturing, marketing, and distribution of pharmaceutical products. These regulations are essential to ensure the safety, efficacy, and quality of medications, preventing the distribution of unsafe or ineffective drugs.

If you want to do medicine business then you must know about the laws, rules and regulations of medicine business. Otherwise you will not be able to do pharmacy business or medicine business properly.Your mistake can cause harm to the patient and the mobile court can come and impose a fine. Therefore, everyone involved in the pharmaceutical business should know and follow the drug rules and regulations.
HRTD Medical Institute Provides some pharmacy Courses. These courses are only for them who are interested to pharmacy business or medicine business. These courses will help for passing C Category Pharmacy Certificare Course exam.
These Pharmacy Courses are Pharmacy Course 3 Months ( This Course is only for them who are angaged in Pharmacy Business or Medicine Business), Pharmacy Course 6 Months, Pharmacy Course 1 Year, Diploma in Pharmacy Course 1 Year, Pharmacy Course 2 Years, Pharmacy Course 3 Years and Pharmacy Course 4 Years. All the above courses are available in HRTD Medical Institute. Actually these courses are Pharmacy Technician Courses. HRTD Medical Institute is an Organization of HRTD Limited (Registered by the Government of the People's Republic of Bangladesh).
ওষুধ সংক্রান্ত নিয়মকানুন হল ওষুধজাত পণ্যের উন্নয়ন, উৎপাদন, বিপণন এবং বিতরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়িত আইনি কাঠামো, নির্দেশিকা এবং মান। ওষুধের নিরাপত্তা, কার্যকারিতা এবং গুণমান নিশ্চিত করার জন্য, অনিরাপদ বা অকার্যকর ওষুধের বিতরণ রোধ করার জন্য এই নিয়মকানুনগুলি অপরিহার্য।
আপনি যদি ঔষধের ব্যবসা করতে চান তাহলে ঔষধের ব্যবসার আইন কানুন এবং নিয়ম নীতি সম্পর্কে জানা থাকতে হবে । তা না হলে আপনি ফার্মেসী ব্যবসা বা ঔষধের ব্যবসা সঠিকভাবে করতে পারবেন না। আপনার ভূলের কারণে রোগীর ক্ষতি হতে পারে এবং ভ্রাম্যমান আদালত এসে জরিমানা আরোপ করতে পারে । তাই ঔষধের ব্যবসার সাথে জড়িত সকলের জানা উচিৎ এবং মেনে চলা উচিৎ ড্রাগ রুলস এবং রেগুলেশন গুলি ।
এইচআরটিডি মেডিকেল ইনস্টিটিউট কিছু ফার্মেসি কোর্স প্রদান করে। এই কোর্সগুলি শুধুমাত্র তাদের জন্য যারা ফার্মেসি ব্যবসা বা ঔষধ ব্যবসা করতে আগ্রহী। এই কোর্সগুলি সি ক্যাটাগরি ফার্মেসি সার্টিফিকেয়ার কোর্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে সাহায্য করবে। এই ফার্মেসি কোর্সগুলি হল ফার্মেসি কোর্স 3 মাস (এই কোর্সটি শুধুমাত্র তাদের জন্য যারা ফার্মেসি ব্যবসা বা ঔষধ ব্যবসাতে আগ্রহী), ফার্মেসি কোর্স 6 মাস, ফার্মেসি কোর্স 1 বছর, ফার্মেসি কোর্স 2 বছর, ফার্মেসি কোর্স 3 বছর এবং ফার্মেসি কোর্স 4 বছর। উপরের সমস্ত কোর্স এইচআরটিডি মেডিকেল ইনস্টিটিউটে উপলব্ধ। এইচআরটিডি মেডিকেল ইনস্টিটিউট হল এইচআরটিডি লিমিটেডের একটি সংস্থা (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার দ্বারা নিবন্ধিত)।
Definition
- Drug Regulation: A substantial body of legislation and control measures that manage the entire lifecycle of a drug, from initial research to post-market surveillance.
- Scope: Covers manufacturing standards (GMP), clinical trials, licensing, labeling, and advertising.
- Key Components: Involves Current Good Manufacturing Practices (cGMP), Good Clinical Practices (GCP), and Good Distribution Practices (GDP).
ওষুধ নিয়ন্ত্রণ: প্রাথমিক গবেষণা থেকে শুরু করে বাজার-পরবর্তী নজরদারি পর্যন্ত একটি ওষুধের সমগ্র জীবনচক্র পরিচালনা করে এমন আইন এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্যাপ্তি: উৎপাদন মান (GMP), ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, লাইসেন্সিং, লেবেলিং এবং বিজ্ঞাপন অন্তর্ভুক্ত করে। মূল উপাদান: বর্তমান ভালো উৎপাদন অনুশীলন (cGMP), ভালো ক্লিনিক্যাল অনুশীলন (GCP), এবং ভালো বিতরণ অনুশীলন (GDP) জড়িত।
Importance of Drug Regulations
- Ensuring Public Safety: The primary goal is to prevent the sale of contaminated, adulterated, or fraudulent drugs, protecting consumers from potential health risks or fatal consequences.
- Guaranteeing Efficacy and Quality: Regulations ensure that products are scientifically tested and effective for their intended use before reaching the market.
- Standardization: They enforce consistent manufacturing standards (e.g., cGMP) to ensure product quality and safety.
- Pharmacovigilance (Post-Market Surveillance): Regulations require ongoing monitoring of drug safety after they are approved, allowing for the detection of adverse events.
- Drug Classification: Drugs are classified into schedules (e.g., controlled substances) to manage potential misuse and addiction.
- Ethical Marketing and Information: Regulations govern how drug information is communicated to professionals and consumers to prevent misleading claims.
- Facilitating Global Standards: International bodies (like ICH) help harmonize regulations, ensuring safe, high-quality medicine access across borders.
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা: প্রাথমিক লক্ষ্য হল দূষিত, ভেজাল বা প্রতারণামূলক ওষুধের বিক্রয় রোধ করা, সম্ভাব্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি বা মারাত্মক পরিণতি থেকে ভোক্তাদের রক্ষা করা। কার্যকারিতা এবং গুণমান নিশ্চিত করা: নিয়ন্ত্রণগুলি নিশ্চিত করে যে পণ্যগুলি বাজারে পৌঁছানোর আগে বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত এবং তাদের উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য কার্যকর। মানকীকরণ: পণ্যের গুণমান এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য তারা সামঞ্জস্যপূর্ণ উৎপাদন মান (যেমন, cGMP) প্রয়োগ করে।
ফার্মাকোভিজিল্যান্স (বাজার-পরবর্তী নজরদারি): নিয়মাবলীর জন্য অনুমোদনের পর ওষুধের নিরাপত্তার উপর চলমান পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন, যা প্রতিকূল ঘটনা সনাক্তকরণের অনুমতি দেয়। ওষুধের শ্রেণীবিভাগ: সম্ভাব্য অপব্যবহার এবং আসক্তি পরিচালনা করার জন্য ওষুধগুলিকে তফসিলে (যেমন, নিয়ন্ত্রিত পদার্থ) শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। নৈতিক বিপণন এবং তথ্য: বিভ্রান্তিকর দাবি রোধ করার জন্য পেশাদার এবং ভোক্তাদের কাছে ওষুধের তথ্য কীভাবে পৌঁছে দেওয়া হয় তা নিয়ন্ত্রণ করে। বিশ্বব্যাপী মানদণ্ড সহজতর করা: আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি (যেমন ICH) সীমান্ত পেরিয়ে নিরাপদ, উচ্চ-মানের ওষুধের অ্যাক্সেস নিশ্চিত করে নিয়মকানুনগুলিকে সামঞ্জস্য করতে সহায়তা করে।
বাংলাদেশ সংবিধানে ড্রাগ রুলস এবং রেগুলেশন গুলো কি কি ?
বাংলাদেশে ঔষধের মান-নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন, আমদানি, ও বিক্রয় মূলত ঔষধ ও কসমেটিকস্ আইন, ২০২৩ এবং জাতীয় ওষুধ নীতি, ২০১৬-এর অধীনে পরিচালিত হয়। এটি পুরাতন ড্রাগস অ্যাক্ট, ১৯৪০ এবং ড্রাগস (কন্ট্রোল) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর পরিমার্জিত রূপ, যা ঔষধের লাইসেন্সিং, মানসম্মত ঔষধ উৎপাদন এবং বিক্রয় নিশ্চিত করে।
প্রধান ড্রাগ রুলস এবং রেগুলেশনসমূহ:
- লাইসেন্সিং ও অনুমোদন: ড্রাগ লাইসেন্স (DGDA থেকে প্রাপ্ত) ছাড়া ঔষধ উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, বিক্রয়, মজুদ, বা প্রদর্শন বেআইনি।
- জাতীয় ঔষধ নীতি, ২০১৬: নিরাপদ, কার্যকর এবং উন্নতমানের ঔষধ সাশ্রয়ী মূল্যে সহজলভ্য করা।
- ঔষধ ও কসমেটিকস্ আইন, ২০২৩: ঔষধের উৎপাদন, মান-নিয়ন্ত্রণ এবং আমদানি-রপ্তানি বিধিমালা নির্ধারণ।
- ড্রাগস অ্যাক্ট, ১৯৪০ (সংশোধিত): বিষাক্ত ও সাধারণ ঔষধের মান নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ।
- নারকোটিক্স কন্ট্রোল অ্যাক্ট, ২০১৮: মাদক বা নারকোটিক্স উৎপাদন ও সংরক্ষণে লাইসেন্সিং ও পরিদর্শনের বিধান।
- মানদণ্ড: ঔষধের মান নিয়ন্ত্রণে ড্রাগস টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি বোর্ড এবং সেন্ট্রাল ড্রাগস ল্যাবরেটরি কাজ করে।
লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসি বা কোম্পানি পরিচালনা, নকল ঔষধ উৎপাদন, বা নির্ধারিত মানের চেয়ে নিম্নমানের ঔষধ বিক্রয় আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
Drug Control Ordinance গুলো কি কি ?
বাংলাদেশে ওষুধ এবং মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত দুটি প্রধান অধ্যাদেশ ও আইন কার্যকর রয়েছে। এর মধ্যে The Drugs (Control) Ordinance, 1982 মূলত ওষুধের মান ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত, আর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (যা পূর্ববর্তী ১৯৯০ সালের আইনকে প্রতিস্থাপন করেছে) মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধে ব্যবহৃত হয়।
নিচে প্রধান অধ্যাদেশ ও আইনগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
১. দ্য ড্রাগস (কন্ট্রোল) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২ (The Drugs (Control) Ordinance, 1982)
এটি বাংলাদেশে ওষুধের উৎপাদন, আমদানি, বিতরণ এবং বিক্রয় নিয়ন্ত্রণের প্রধান আইনি ভিত্তি [১.১.৮, ১.৪.২]।
- রেজিস্ট্রেশন: লাইসেন্সিং অথরিটির কাছে নিবন্ধিত না হয়ে কোনো ওষুধ উৎপাদন বা আমদানি করা যাবে না [১.২.৫, ১.২.৭]।
- ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কমিটি: সরকার একটি ড্রাগ কন্ট্রোল কমিটি গঠন করবে যারা ওষুধের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা মূল্যায়ন করবে [১.১.৪, ১.৪.৩]।
- বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ: অনুমতি ছাড়া ওষুধের কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করা নিষিদ্ধ [১.২.৮, ১.৩.৯]।
- শাস্তি: অনুমোদিত নয় এমন ওষুধ আমদানি বা উচ্চমূল্যে বিক্রয় করলে জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে [১.২.১, ১.৪.৪]।
- ড্রাগ কোর্ট: এই অধ্যাদেশের অধীনে অপরাধের বিচারের জন্য বিশেষ ড্রাগ কোর্ট স্থাপনের বিধান রয়েছে [১.৩.৯, ১.৪.৯]।
২. মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (Narcotics Control Act, 2018)
এটি মাদকদ্রব্যের সরবরাহ ও চাহিদা হ্রাস, পাচার রোধ এবং মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের জন্য প্রণীত [১.৫.৭]।
- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (DNC): এই আইনের অধীনে মাদক দমনে অধিদপ্তরের ক্ষমতা ও কার্যাবলি নির্ধারিত [১.৩.৩, ১.৫.২]।
- লাইসেন্স ও পারমিট: অ্যালকোহল বা অন্য কোনো মাদকদ্রব্য উৎপাদন বা ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট লাইসেন্স বা পারমিট বাধ্যতামূলক [১.৩.৮, ১.৫.২]।
- তল্লাশির ক্ষমতা: পরোয়ানা ছাড়াই সন্দেহভাজন স্থানে তল্লাশি এবং ব্যক্তির দেহ তল্লাশির (যেমন এক্স-রে বা আল্ট্রাসনোগ্রাম) ক্ষমতা কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে [১.৫.৬, ১.৫.৮]।
- শাস্তি: মাদকের পরিমাণ ও ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে [১.৩.৬, ১.৫.৩]।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
- ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনটি ২০১৮ সালের নতুন আইনের মাধ্যমে রহিত করা হয়েছে [১.৫.৭]।
- এছাড়াও এর আগে ১৯১৯ ও ১৯২৮ সালের আফিম আইন (Opium Act) প্রচলিত ছিল [১.৩.৪]।
Drug Control Ordinance এর Amendment গুলো কি কি ?
১৯৮২ সালের ড্রাগস (কন্ট্রোল) অর্ডিন্যান্স (Drugs Control Ordinance, 1982) বাংলাদেশে ঔষধের উৎপাদন, আমদানি ও মান নিয়ন্ত্রণে মূল আইন, যা পরবর্তীতে বেশ কয়েকবার সংশোধিত হয়েছে। প্রধান সংশোধনীগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৮৪ সালের সংশোধন (সেকশন ২১-এ ড্রাগ কোর্ট বা ঔষধ আদালত সংক্রান্ত পরিবর্তন), ওষুধের নিবন্ধন ও মান নিয়ন্ত্রণ কঠোরকরণ, এবং সর্বশেষ ২০২৩ সালে নতুন “ঔষধ ও কসমেটিকস্ আইন, ২০২৩” এর মাধ্যমে আগের আইনগুলো প্রতিস্থাপন ও আধুনিকায়ন।
ড্রাগস (কন্ট্রোল) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর উল্লেখযোগ্য সংশোধনী ও পরিবর্তনের বিষয়সমূহ:
- ড্রাগ কোর্ট গঠন ও সংশোধন (১৯৮৪): ১৯৮৪ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে অর্ডিন্যান্সে ২১এ (21A) ধারা যুক্ত করা হয়, যা ঔষধ আদালত কর্তৃক অপরাধ আমলে নেওয়ার বিষয়টিকে সুনির্দিষ্ট করে।
- নিবন্ধন ও মান নিয়ন্ত্রণ (১৯৮৪ ও পরবর্তী): ওষুধের নিবন্ধন ফি, আমদানি, মজুত, প্রদর্শনী এবং বিক্রয়ের ক্ষেত্রে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। নকল ও মানহীন ঔষধ রোধে শাস্তির বিধান কঠোর করা হয়।
- ওষুধের কাঁচামাল আমদানি (১৯৮৪): ঔষধ তৈরির কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়।
- ঔষধ ও কসমেটিকস্ আইন, ২০২৩: সর্বশেষ ২০২৩ সালে নতুন আইন পাস হওয়ার মাধ্যমে ১৯৮২ সালের অর্ডিন্যান্সের অনেক বিষয় সংশোধন ও সংযোজন করে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হয়েছে, যেখানে ন্যাশনাল ড্রাগ কন্ট্রোল ল্যাবরেটরি (NDCL) এবং ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি (DTL) এর ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
- কসমেটিকস অন্তর্ভুক্তকরণ: নতুন আইনে ঔষধের পাশাপাশি কসমেটিকসের মান নিয়ন্ত্রণও যুক্ত করা হয়েছে।
Amentment in 1982 of the Drug Control Ordinance কি ?
১৯৮২ সালের The Drugs (Control) Ordinance বা ঔষধ (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ছিল বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পের জন্য একটি যুগান্তকারী আইন, যা তৎকালীন জাতীয় ঔষধ নীতির প্রেক্ষাপটে জারি করা হয়েছিল [১.৩.৮]। ওই একই বছর এই অধ্যাদেশে কিছু সংশোধনও আনা হয়, যা Drugs (Control) (Amendment) Ordinance, 1982 নামে পরিচিত [১.১.৮]।
১৯৮২ সালের মূল অধ্যাদেশ এবং এর পরবর্তী সংশোধনীর মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- ঔষধের তালিকা বিন্যাস ও সময়সীমা বর্ধিতকরণ: ১৯৮২ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে ক্ষতিকর বা অপ্রয়োজনীয় ঔষধগুলো বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, তফশিল ২-এর ঔষধ বিক্রির সময় ৬ মাস থেকে বাড়িয়ে ১২ মাস এবং তফশিল ৩-এর জন্য ৯ মাস থেকে বাড়িয়ে ১৮ মাস করা হয় [১.২.১, ১.৫.৯]।
- তফশিল ৪-এর সংযোজন: সংশোধনীর মাধ্যমে ঔষধের তালিকায় নতুন একটি তফশিল (Schedule IV) যোগ করা হয়, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু ঔষধের পুনঃনিবন্ধনের বিধান রাখা হয় [১.২.১]।
- নিবন্ধন ও গুণমান নিয়ন্ত্রণ: কোনো ঔষধ নিবন্ধন ছাড়া উৎপাদন বা বিক্রি করা নিষিদ্ধ করা হয় [১.২.১, ১.৩.৪]। ড্রাগ কন্ট্রোল কমিটি (DCC) প্রতিটি ঔষধের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাই করার ক্ষমতা পায় [১.২.৩]।
- মূল্য নির্ধারণ: সরকার ঔষধ এবং ঔষধের কাঁচামালের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করার ক্ষমতা লাভ করে [১.১.৪, ১.৩.৩]।
- বিদেশী লাইসেন্স নিয়ন্ত্রণ: বাংলাদেশে উৎপাদন কারখানা নেই এমন কোনো বিদেশী কোম্পানির লাইসেন্সের অধীনে ঔষধ উৎপাদন সীমিত করা হয়, যদি সেই ঔষধের বিকল্প দেশে উৎপাদিত হয় [১.৫.৭]।
- ড্রাগ কোর্ট প্রতিষ্ঠা: ঔষধ সংক্রান্ত অপরাধ দ্রুত বিচার করার জন্য বিশেষ Drug Courts বা ড্রাগ কোর্ট গঠনের বিধান রাখা হয় [১.৩.৭]।
Amentment of the Drug Control Ordinance 1984 কি ?
১৯৮৪ সালের ড্রাগস (কন্ট্রোল) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং XLIII, ১৯৮৪) মূলত ১৯৮২ সালের ড্রাগস (কন্ট্রোল) অর্ডিন্যান্সকে আরও শক্তিশালী করার জন্য করা হয়েছিল [১.২.১]। এই সংশোধনীর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- আপিল কর্তৃপক্ষ গঠন: নতুন ৬এ ধারা যুক্ত করার মাধ্যমে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির আপিল করার সুযোগ তৈরি করা হয় [১.২.১]।
- নিবন্ধিত ওষুধ ছাড়া প্রেসক্রিপশন নিষিদ্ধ: নতুন ১৪এ ধারা অনুযায়ী, কোনো চিকিৎসক সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত নয় এমন কোনো ওষুধ রোগীর জন্য প্রেসক্রিপশনে লিখতে পারবেন না [১.২.৪]। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বিশেষ অনুমতিতে আমদানিকৃত ওষুধের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয় [১.২.৬]।
- কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ: ২১এ ধারা যুক্ত করে বিধান করা হয় যে, যদি কোনো কোম্পানি এই অর্ডিন্যান্সের অধীনে অপরাধ করে, তবে ওই সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তি এবং কোম্পানি উভয়ই অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে [১.৫.৭]।
- শাস্তি ও পরিধি বৃদ্ধি: ওষুধের সংজ্ঞা এবং শাস্তির আওতায় শুধু বিক্রি নয়, বরং ‘মজুত’, ‘প্রদর্শন’ এবং ‘অংশীদারিত্ব’-কেও অন্তর্ভুক্ত করা হয় [১.১.১, ১.২.৩]। এছাড়া “অ্যাডাল্টারেটেড” (ভেজাল) ওষুধের পাশাপাশি “মিসব্র্যান্ডেড” বা নকল ওষুধের শাস্তির বিধানও স্পষ্ট করা হয় [১.২.৩]।
আপনি কি ১৯৮২ সালের মূল ড্রাগ কন্ট্রোল অর্ডিন্যান্সের কোনো নির্দিষ্ট ধারা বা ২০২৩ সালের নতুন ড্রাগ অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্ট সম্পর্কে জানতে চান?
Amentment of the Drug Control Ordinance 2006 কি ?
২০০৬ সালে বাংলাদেশের Drugs (Control) Ordinance, 1982-এর সংশোধনী আনা হয় Drugs (Control) (Amendment) Act, 2006 (Act No. IV of 2006) এর মাধ্যমে [১.১.২, ১.৫.১]। এই সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রচলিত ঔষধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী করা এবং ভেষজ ও অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির ঔষধগুলোকে আইনের আওতায় আনা।
সংশোধনীর প্রধান দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- ভেষজ ঔষধের অন্তর্ভুক্তি: আইনের বিভিন্ন ধারায় “system of medicine” শব্দগুলোর পরিবর্তে “system of medicine or herbal drugs” যুক্ত করা হয় [১.২.৩]। এর ফলে ইউনানি, আয়ুর্বেদিক এবং হোমিওপ্যাথিক ঔষধের পাশাপাশি সব ধরণের হার্বাল বা ভেষজ ঔষধ এই নিয়ন্ত্রণের আওতায় আসে [১.২.৩, ১.৫.৪]।
- ফার্মাসিস্টদের নিয়োগ ও সংজ্ঞা: ধারায় “Pharmacists” শব্দের পরিবর্তে “Pharmacists, etc.” ব্যবহার করা হয় [১.১.২]। ঔষধ উৎপাদন কারখানায় ফার্মাসিস্টদের পাশাপাশি কেমিস্ট, বায়োকেমিস্ট বা মাইক্রোবায়োলজিস্টদের নিয়োগের যোগ্যতার বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা যুক্ত করা হয় [১.২.৩, ১.৫.৪]।
- সেমি-ফিনিশড বাল্ক ড্রাগ: ঔষধের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে “semi-finished bulk drug” শব্দগুলো যুক্ত করা হয়, যা আগে স্পষ্ট ছিল না [১.১.৫, ১.৫.১]।
- রেজিস্ট্রেশন মানদণ্ড: হোমিওপ্যাথিক এবং বায়োকেমিক ঔষধের রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দেশের স্বীকৃত ফার্মাকোপিয়া (Pharmacopoeias) অনুসরণ করার বিধান যুক্ত করা হয় (Section 5, Sub-section 1A) [১.২.৮, ১.৫.৪]।
- শাস্তি ও জরিমানা: ভেজাল (Adulterated), নকল (Spurious) বা অনুকরণকৃত (Imitated) ঔষধ উৎপাদন ও বিক্রয়ের শাস্তির পরিধি আরও সুনির্দিষ্ট করা হয় [১.১.৮, ১.৫.৯]।
উল্লেখ্য যে, ১৯৮২ সালের এই মূল অধ্যাদেশটি পরবর্তীতে ঔষধ ও কসমেটিকস্ আইন, ২০২৩ দ্বারা রহিত (repeal) করা হয়েছে [১.২.৫, ১.৩.৭]।
আপনি কি ২০২৩ সালের নতুন ঔষধ আইন সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে চান?
The pharmacy ordinance কি ?
ফার্মেসি অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ (The Pharmacy Ordinance, 1976) হলো বাংলাদেশে ফার্মেসি পেশা, ফার্মাসিস্টদের নিবন্ধন, এবং ফার্মেসি কাউন্সিল অফ বাংলাদেশ গঠনের মূল আইন [২, ৩]। এটি ১৯৭৬ সালে প্রণীত হয়, যা ওষুধের উৎপাদন, বিতরণ এবং বিক্রয় যাচাই করার জন্য ফার্মাসিস্টদের নিবন্ধন নিশ্চিত করে [৪, ৫]।
অধ্যাদেশটির মূল বিষয়সমূহ:
- ফার্মেসি কাউন্সিল গঠন: এই আইনের অধীনে ফার্মেসি কাউন্সিল অফ বাংলাদেশ (PCB) গঠিত হয়, যা ফার্মেসি শিক্ষা এবং পেশাগত অনুশীলন নিয়ন্ত্রণ করে [২, ৭]।
- রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন): ফার্মাসিস্টদের নিবন্ধন এবং অ্যাপেন্টিস (শিক্ষানবিশ) রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম নির্ধারণ [৩, ৭]।
- নিশ্চিতকরণ: এটি নিশ্চিত করে যে ফার্মাসিস্টরা একটি উপযুক্ত শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত [২]।
- লাইসেন্স ও তদারকি: ওষুধ উৎপাদন ও খুচরা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত ফার্মাসিস্টের ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধান বাধ্যতামূলক করে [৫]।
- পরিদর্শন: ফার্মেসি কোর্স প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিদর্শন এবং নিয়ন্ত্রণ করা [২]।
১৯৭৬ সালের এই অধ্যাদেশটি মূলত ফার্মাসিস্টদের পেশাগত মানদণ্ড নির্ধারণ করে, যাতে জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত হয় [৪]। রোগীদের নিরাপদ ও কার্যকর ঔষধের সরবরাহ নিশ্চিত করা [১৩]।
Special Act of Pharmacy 2013 কি ?
বাংলাদেশে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ঔষধ বিক্রি রোধে ২০১৩ সালের প্রেক্ষাপটে প্রণীত কঠোর আইনি ব্যবস্থাই হলো ‘Special Act of Pharmacy’ (মূলত স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট বা বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে ব্যবস্থা)। এর আওতায় ভেজাল বা মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে [৭]।
- মূল উদ্দেশ্য: ঔষধের মান নিশ্চিত করা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অপরাধীদের দ্রুত ও কঠোর বিচার করা [৭]।
- শাস্তির বিধান: ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধের দ্বিতীয়বার অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ড এবং অর্থদণ্ড [৭]।
- লক্ষ্য: ফার্মেসিগুলোতে অনিয়ম রোধ এবং নকল ও নিম্নমানের ঔষধ সরবরাহ বন্ধ করা [৭]।
- অ্যাকশন: ভোক্তা অধিকার ও আদালতের নির্দেশে এই আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হয় [৭]।
এই আইনটি মূলত ঔষধ নিয়ন্ত্রণ ও ফার্মেসিগুলোর জবাবদিহিতা বাড়াতে একটি বিশেষ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করে।
The Drug Act কি ?
বাংলাদেশে ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ (যা পূর্বে ১৯৪০ সালের ড্রাগস অ্যাক্ট এবং ১৯৮২ সালের অর্ডিন্যান্সের পরিবর্তে প্রণীত) ওষুধ, কসমেটিকস এবং মেডিকেল ডিভাইসের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, বিক্রয়, সংরক্ষণ ও মান নিয়ন্ত্রণ করে [৬, ৮]। এই আইন অনুযায়ী নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত:
- ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ: ওষুধের মান নিশ্চিতকরণ ও মানসম্মত ওষুধের উৎপাদন, বিতরণ ও বিক্রয় [৬, ৮]।
- লাইসেন্সিং: ওষুধ প্রস্তুত, আমদানি, এবং বিক্রয়ের জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (DGDA) থেকে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক [৯]।
- নিরাপত্তা: ভেজাল, নকল, মিসব্র্যান্ডেড (ভুল লেবেলযুক্ত) এবং নিম্নমানের ওষুধ প্রতিরোধ করা [৬]।
- লাইসেন্স রিনিউ: উৎপাদন লাইসেন্স দুই বছর এবং রেজিস্ট্রেশন লাইসেন্স পাঁচ বছরের জন্য বৈধ থাকে, এরপর নবায়নযোগ্য [৯]।
- পরিদর্শন ও শাস্তি: ড্রাগ ইন্সপেক্টরদের পরিদর্শন ক্ষমতা এবং আইন লঙ্ঘনের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা [১৪]।
দ্রষ্টব্য: ২০২৩ সালে নতুন আইন পাসের মাধ্যমে পুরনো ১৯৪০ সালের ড্রাগস অ্যাক্ট রহিত করা হয়েছে [৬, ৮]।
The Drug Act 1940 কি?
The Drug Act 1940 কি?
ড্রাগ অ্যাক্ট ১৯৪০ (Drugs Act, 1940) হলো একটি ঐতিহাসিক আইন যা মূলত ব্রিটিশ ভারতে ওষুধের আমদানি, উৎপাদন, বিতরণ এবং বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছিল [১.১.৩, ১.৪.১]। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন ধরে এই আইনের মাধ্যমেই দেশের ঔষধ খাত পরিচালিত হয়ে আসছিল [১.৩.২]।
এই আইনের মূল বৈশিষ্ট্য ও উদ্দেশ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- ওষুধের মান নিশ্চিতকরণ: বাজারে বিক্রি হওয়া ওষুধ যাতে নিরাপদ, কার্যকর এবং নির্দিষ্ট মানসম্পন্ন হয় তা নিশ্চিত করা এই আইনের প্রাথমিক লক্ষ্য [১.১.১, ১.৩.১]।
- আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ: লাইসেন্স ব্যতীত নির্দিষ্ট শ্রেণির ওষুধ আমদানি বা রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে [১.৪.২, ১.৫.২]।
- উৎপাদন ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ: ওষুধের উৎপাদন ও বিক্রয়ের জন্য সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক [১.৪.২, ১.৫.৫]।
- ভেজাল ওষুধ প্রতিরোধ: সাব-স্ট্যান্ডার্ড (নিম্নমানের) বা স্পুরিয়াস (নকল) ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে [১.১.২, ১.৪.৭]।
- পরিদর্শন ব্যবস্থা: ড্রাগ ইন্সপেক্টরদের মাধ্যমে নিয়মিত লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং ওষুধের নমুনা পরীক্ষার বিধান রয়েছে [১.৪.২, ১.৫.২]।
- শাস্তি ও দণ্ড: আইনের কোনো ধারা লঙ্ঘন করলে কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান এই আইনে রাখা হয়েছে [১.৪.১, ১.৫.২]।
বর্তমান অবস্থা:
বাংলাদেশে এই আইনটি দীর্ঘকাল কার্যকর থাকলেও, ২০২৩ সালে এটি এবং ১৯৮২ সালের ড্রাগ (কন্ট্রোল) অর্ডিন্যান্স রহিত করে নতুন ঔষধ ও কসমেটিকস্ আইন, ২০২৩ প্রণয়ন করা হয়েছে [১.৩.২, ১.৩.৩]। বর্তমানে বাংলাদেশের ঔষধ ও প্রসাধনী খাত এই নতুন আইনের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
The Drug Act 1974 কি?
বাংলাদেশে “Drug Act 1974” নামে স্বতন্ত্র কোনো আইন নেই; তবে ১৯৭৪ সালে ড্রাগ বা ঔষধ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রেক্ষাপট রয়েছে:
- ড্রাগস অ্যাক্ট, ১৯৪০-এর অভিযোজন: ব্রিটিশ আমলে প্রণীত The Drugs Act, 1940 আইনটি ১৯৭৪ সালে “Bangladesh Laws (Revision and Declarations) (Amendment) Act, 1974” (আইন নং ৫৩, ১৯৭৪) এর মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশে কার্যকর করার জন্য গৃহীত ও সংশোধিত হয়। এই মূল আইনটি বাংলাদেশে ঔষধের আমদানি, রপ্তানি, উৎপাদন এবং বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ করে।
- বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ (Special Powers Act, 1974): এই আইনের ২৫সি (25C) ধারায় ভেজাল ঔষধ উৎপাদন বা বিক্রয়ের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এই ধারার অধীনে:
- ঔষধের কার্যকারিতা কমানোর জন্য ভেজাল মেশানো বা ক্ষতিকারক কোনো কিছু যোগ করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
- এমন অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১৪ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে।
পরবর্তীতে ঔষধ নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে ১৯৮২ সালে The Drugs (Control) Ordinance, 1982 জারি করা হয় এবং বর্তমানে এটি ২০২৩ সালের নতুন “ঔষধ ও কসমেটিকস আইন” দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে।
The Drug Rules 1945 কি?
The Drugs Rules, 1945 হলো ১৯৪০ সালের Drugs and Cosmetics Act (ঔষধ ও প্রসাধনী আইন) বাস্তবায়নের জন্য প্রণীত একটি বিস্তারিত বিধিমালা [১.১.১, ১.৩.১]। এটি মূলত ঔষধের আমদানি, উৎপাদন, বিতরণ এবং বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে [১.৩.৩, ১.৫.৫]।
এই বিধিমালার মূল বৈশিষ্ট্য ও উদ্দেশ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- ঔষধের শ্রেণিবিন্যাস (Schedules): ঔষধগুলোকে বিভিন্ন তফসিলে (Schedules) ভাগ করা হয়েছে। যেমন— Schedule H এবং Schedule X এর ঔষধগুলো কেবল নিবন্ধিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি করা নিষিদ্ধ [১.৩.১, ১.৪.৮]।
- মান নিয়ন্ত্রণ: ঔষধ এবং প্রসাধনীর গুণগত মান বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে [১.১.১, ১.৩.৪]।
- লাইসেন্সিং: ঔষধ উৎপাদন বা বিক্রির জন্য উপযুক্ত লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক। এই বিধিমালা অনুযায়ী কেবল দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ব্যক্তিরাই (যেমন: ফার্মাসিস্ট) ঔষধ তৈরি বা বিতরণ করতে পারেন [১.৪.৫, ১.৫.৫]।
- প্যাকেজিং ও লেবেলিং: ঔষধের গায়ে এর উপাদান, উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ এবং প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা স্পষ্টভাবে লেখা থাকার নিয়ম এই বিধিতে উল্লেখ আছে [১.৪.১, ১.৫.৯]।
- তদারকি: সরকারি ড্রাগ ইন্সপেক্টর এবং এনালিস্টদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব এই বিধিমালার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে, যাতে তারা নিয়মিত বাজার ও কারখানা পরিদর্শন করে মান নিশ্চিত করতে পারেন [১.৩.২, ১.৫.২]।
বাংলাদেশ ও ভারত—উভয় দেশেই ১৯৪০ সালের মূল আইনের ভিত্তিতে এই বিধিমালাটি দীর্ঘকাল ধরে ঔষধ নিয়ন্ত্রণের প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে [১.২.১, ১.৫.১]। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ এই নিয়মগুলোকে আধুনিকায়ন করে The Drugs and Cosmetics Act, 2023 প্রবর্তন করেছে [১.২.৪, ১.২.৮]।
The Bengal Drug Rules 1946 কি ?
বেঙ্গল ড্রাগ রুলস ১৯৪৬ (The Bengal Drug Rules, 1946) হলো তৎকালীন বাংলা প্রদেশে ঔষধের মান নিয়ন্ত্রণ, বিক্রয় এবং উৎপাদন তদারকির জন্য প্রণীত একটি বিধিবদ্ধ নিয়মাবলী। এটি মূলত ১৯৪০ সালের ড্রাগস অ্যাক্ট (The Drugs Act, 1940)-এর অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ৭ জানুয়ারি ১৯৪৬ সালে জারি করা হয়।
এই বিধিমালার মূল উদ্দেশ্য ও বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- লক্ষ্য: ঔষধের মান নিশ্চিত করা এবং অনুমোদনহীন বা নিম্নমানের ঔষধের বাজারজাতকরণ রোধ করা।
- লাইসেন্স নিয়ন্ত্রণ: ঔষধ বিক্রয়, মজুত এবং প্রদর্শনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাইসেন্স গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং শর্তাবলী এতে বর্ণনা করা হয়েছে।
- তদারকি ও পরিদর্শন: সরকারি ড্রাগ ইন্সপেক্টরদের (Drug Inspectors) নিয়োগ, তাদের যোগ্যতা এবং দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। তারা বছরে অন্তত দুবার লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করবেন।
- পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ: ঔষধের নমুনা সংগ্রহ এবং সরকারি ল্যাবরেটরিতে (Government Analyst) তা পরীক্ষার নিয়মাবলী এতে অন্তর্ভুক্ত।
- মোড়ক ও লেবেলিং: ঔষধের গায়ে লেবেল লাগানো, উপাদানের তালিকা প্রদান এবং বিষাক্ত ঔষধের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কবার্তা ব্যবহারের নিয়ম এতে স্পষ্ট করা হয়েছে।
- আইনি প্রয়োগ: বাংলাদেশে বর্তমানে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (DGDA) এই আইন ও বিধিমালার মাধ্যমে ঔষধের বাজার তদারকি করে থাকে। তবে ২০২৩ সালে নতুন ঔষধ ও কসমেটিকস আইন পাসের মাধ্যমে পুরনো অনেক বিধান রহিত বা আপডেট করা হয়েছে।
The Dangerous Drug Act 1930 এবং 1351 কি ?
The Dangerous Drugs Act, 1930 এবং The Dangerous Drugs Act, 1951 মূলত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সরকারি তদারকি নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত ব্রিটিশ ও পরবর্তী সময়ের গুরুত্বপূর্ণ আইন।
১. দ্য ডেঞ্জারাস ড্রাগস অ্যাক্ট, ১৯৩০ (The Dangerous Drugs Act, 1930)
এটি ব্রিটিশ ভারত সরকার কর্তৃক প্রণীত একটি কেন্দ্রীয় আইন, যা বাংলাদেশে এখনো আইনগতভাবে স্বীকৃত [১.১.৭, ১.২.১]। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- উদ্দেশ্য: আফিম, কোকেন এবং হেরোইনের মতো বিপজ্জনক মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধ করা এবং এগুলোর উৎপাদন ও ব্যবহার কেবলমাত্র চিকিৎসা বা গবেষণার কাজে সীমাবদ্ধ রাখা [১.২.৩, ১.৩.৬]।
- নিয়ন্ত্রণ: আইনটি মাদকদ্রব্যের আমদানি, রপ্তানি এবং আন্তঃপ্রাদেশিক পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা সরকারকে প্রদান করে [১.১.৯]।
- শাস্তি: লাইসেন্স ছাড়া মাদক উৎপাদন বা মজুদ করলে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে [১.৩.৬]।
- শ্রেণিবিন্যাস: মাদকদ্রব্যগুলোকে দুটি তফসিলে ভাগ করা হয়। প্রথম তফসিলে কাঁচা আফিম ও গাঁজা এবং দ্বিতীয় তফসিলে মরফিন ও হেরোইন অন্তর্ভুক্ত ছিল [১.৩.৬]।
২. দ্য ডেঞ্জারাস ড্রাগস অ্যাক্ট, ১৯৫১ (The Dangerous Drugs Act, 1951)
১৯৫১ সালের আইনটি মূলত ১৯৩০ সালের আইনের ধারাবাহিকতায় ব্রিটিশ এবং কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে মাদক নিয়ন্ত্রণের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে দেখা যায় [১.৫.২, ১.৫.৫]।
- প্রয়োগ: এটি মাদকের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিতরণের ওপর সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে [১.৫.৫]।
- লাইসেন্স ব্যবস্থা: সচিব বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো কাছে মাদক রাখা বা বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয় [১.৫.৫]।
- পরিবর্তন: এই আইনের আওতায় আফিম ছাড়াও বিভিন্ন সিনথেটিক মাদক ও ওষুধের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করা হয় [১.৫.৪]।
বর্তমান অবস্থা: বাংলাদেশে বর্তমানে এই আইনগুলোর পরিবর্তে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (পূর্ববর্তী ১৯৯০ সালের আইন) কার্যকর রয়েছে, তবে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও আইনি বিবর্তনে এগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম [১.২.৭]।
Narcotic Control Act 1990 কি ?
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০ ছিল বাংলাদেশের একটি সংসদীয় আইন যা দেশে মাদকদ্রব্য ও অ্যালকোহলের উৎপাদন, বণ্টন, লেনদেন, দখল, পরিবহন এবং চাষসহ সকল দিক নিয়ন্ত্রণ করত [১.১.৫, ১.২.১]। এটি ২ জানুয়ারি ১৯৯০ তারিখে কার্যকর হয় এবং একই সাথে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (DNC) প্রতিষ্ঠার আইনি ভিত্তি প্রদান করে [১.১.১, ১.২.৪]।
এই আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও উদ্দেশ্যগুলো ছিল:
- প্রতিষ্ঠা: এই আইনের মাধ্যমেই তৎকালীন রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের অধীনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয় [১.১.১]।
- পূর্ববর্তী আইনের প্রতিস্থাপন: এটি ১৮৭৮ সালের আফিম আইন, ১৯০৯ সালের আবগারি আইন এবং ১৯৩০ সালের বিপজ্জনক মাদক আইনসহ আগের বেশ কিছু পুরনো আইন বাতিল করে সেগুলোকে একীভূত ও আধুনিকায়ন করে [১.১.৫, ১.২.১]।
- নিয়ন্ত্রণ ও লাইসেন্সিং: অ্যালকোহল, মাদকদ্রব্য ও রাসায়নিক উপকরণের আমদানি, রপ্তানি, উৎপাদন এবং ব্যবহারের ওপর কঠোর লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু করে [১.২.৪]।
- শাস্তি: এই আইনে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান ছিল। নির্দিষ্ট পরিমাণ হেরোইন বা কোকেন রাখার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছিল [১.২.৪]।
- বোর্ড গঠন: মাদক প্রতিরোধ ও কৌশল নির্ধারণের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (NNCB) গঠনের ব্যবস্থা করা হয় [১.২.৪, ১.২.৮]।
- চিকিৎসা ও পুনর্বাসন: মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারি-বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার আইনি কাঠামো প্রদান করে [১.২.৪, ১.৩.১১]।
বর্তমান স্থিতি:
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০ বর্তমানে আর কার্যকর নেই। এটিকে বাতিল করে আরও আধুনিক ও কঠোর শাস্তি সম্বলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ প্রবর্তন করা হয়েছে [১.১.৮, ১.৪.১]।
The Poison Act 1919 এবং 1952 কি ?
The Poisons Act, 1919 হলো বাংলাদেশে বিষাক্ত দ্রব্যের আমদানি, সংরক্ষণ এবং বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ করার মূল আইন। অন্যদিকে, The Poisons Act, 1952 মূলত এই ১৯১৯ সালের আইনেরই একটি পরিবর্তিত রূপ যা পাকিস্তান আমলে গৃহীত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে কার্যকর করা হয়।
এই আইনগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য ও উদ্দেশ্য নিচে দেওয়া হলো:
- বিষের সংজ্ঞা: যেসব পদার্থ অল্প মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে মৃত্যু বা মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, সেগুলোকে এই আইনের অধীনে ‘বিষ’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
- আমদানি নিয়ন্ত্রণ: সরকারের অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট বিষ বাংলাদেশে আমদানি করা নিষিদ্ধ।
- বিক্রয় ও লাইসেন্স: সরকার নির্দিষ্ট করতে পারে কারা বিষ বিক্রি করতে পারবে, কাদের কাছে বিক্রি করা যাবে এবং একবারে সর্বোচ্চ কতটুকু পরিমাণ বিক্রি করা যাবে। বিক্রেতাকে অবশ্যই বিক্রয়ের সঠিক হিসাব বা রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে হয়।
- পশু সুরক্ষা: যেসব এলাকায় গবাদি পশুকে বিষ খাইয়ে মারার ঘটনা বেশি ঘটে, সেখানে সরকার বিষের দখল ও ব্যবহারে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে।
- শাস্তি: এই আইনের কোনো নিয়ম ভঙ্গ করলে প্রথমবার অপরাধের জন্য ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা (অথবা উভয়) হতে পারে। দ্বিতীয়বার বা পরবর্তী অপরাধের জন্য ৬ মাস কারাদণ্ড বা ১,০০০ টাকা জরিমানা হতে পারে।
- ব্যতিক্রম: চিকিৎসা কাজে নিয়োজিত চিকিৎসক বা পশু চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে তাদের পেশাগত প্রয়োজনে এই আইনের কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে।
The Poison Act 1919 কি ?
পয়জনস অ্যাক্ট, ১৯১৯ (The Poisons Act, 1919) হলো বিষাক্ত পদার্থের আমদানি, দখল এবং বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করার জন্য প্রণীত একটি আইন [১.২.১, ১.২.৮]। ব্রিটিশ আমলে ১৯০৪ সালের আগের একটি আইন অপর্যাপ্ত বিবেচিত হওয়ায় এটি ৩ সেপ্টেম্বর ১৯১৯ সালে পাস করা হয় [১.১.৮, ১.২.৮]। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশেই সংশোধিত আকারে কার্যকর রয়েছে [১.২.১, ১.২.৪]।
এই আইনের প্রধান উদ্দেশ্য এবং বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- আমদানি নিয়ন্ত্রণ: সরকারের অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো বিষ বাংলাদেশে আমদানি করা নিষিদ্ধ [১.২.২, ১.৩.৮]।
- বিক্রয় ও দখল নিয়ন্ত্রণ: সরকার বিষ বিক্রির জন্য লাইসেন্স প্রদান, বিক্রেতার যোগ্যতা নির্ধারণ এবং একবারে কতটুকু বিষ বিক্রি করা যাবে তা নির্দিষ্ট করে দিতে পারে [১.২.১, ১.৩.৫]।
- তদন্ত ও তল্লাশি: জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কমিশনার কোনো স্থানে অবৈধভাবে বিষ মজুত আছে বলে সন্দেহ করলে তল্লাশি পরোয়ানা (Search Warrant) জারি করতে পারেন [১.২.৯, ১.৩.৪]।
- শাস্তি: আইন অমান্য করলে প্রথমবার অপরাধের জন্য ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০০ টাকা জরিমানা এবং পরবর্তীতে অপরাধের জন্য ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১,০০০ টাকা জরিমানা হতে পারে [১.৩.১, ১.৪.১]।
- ছাড়: চিকিৎসা ও পশু চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা সরল বিশ্বাসে (good faith) কাজের প্রয়োজনে এই আইনের আওতামুক্ত থাকতে পারেন [১.৩.৬, ১.৪.৫]।
The Poison Act 1952 কি ?
পয়জন্স অ্যাক্ট, ১৯৫২ (The Poisons Act, 1952) হলো বিষ বা বিষাক্ত পদার্থের আমদানি, মজুদ এবং বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রবর্তিত একটি আইন [১.৫.১]। এটি মূলত বাংলাদেশে বিষাক্ত দ্রব্যের অপব্যবহার রোধে আইনি কাঠামো প্রদান করে।
এই আইনের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: এই আইনটি মূলত ব্রিটিশ শাসনামলের পয়জন্স অ্যাক্ট, ১৯১৯-এর একটি পরিবর্তিত রূপ [১.২.২, ১.৩.১]। পাকিস্তান সরকার ১৯৫২ সালে এটি গ্রহণ করে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতি রেখে এটি সংশোধন করে বাংলাদেশে কার্যকর করা হয় [১.৫.১, ১.৫.৫]।
- বিষের সংজ্ঞা: এই আইনের অধীনে এমন সকল পদার্থকে ‘বিষ’ হিসেবে গণ্য করা হয় যা অল্প মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে মৃত্যু বা মারাত্মক শারীরিক ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া সরকারের গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা যেকোনো পদার্থও এই আইনের আওতায় আসবে [১.২.২, ১.৫.৫]।
- নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা: সরকার এই আইনের মাধ্যমে বিষ আমদানির জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করতে পারে [১.২.৪, ১.৫.৬]। নির্দিষ্ট এলাকায় বিষ রাখা বা বিক্রির ক্ষেত্রেও সরকার নিয়ম নির্ধারণ করে দেয় [১.২.৬]।
- বিষের শ্রেণিবিভাগ: বাংলাদেশে এই আইনের অধীনে বিষ সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত:
- গ্রুপ-১: মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিষ, যা কেবল নিবন্ধিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র (Prescription) অনুযায়ী লাইসেন্সধারী বিক্রেতারা বিক্রি করতে পারেন [১.২.২, ১.৫.১]।
- শাস্তি ও দণ্ড: আইনের বিধান লঙ্ঘন করলে প্রথমবার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ড বা ** ৫০০ টাকা জরিমানা** (অথবা উভয়) হতে পারে। পরবর্তী প্রতিবার অপরাধের জন্য ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ১,০০০ টাকা জরিমানা হতে পারে [১.৪.২, ১.৫.৫]।
- ব্যতিক্রম: চিকিৎসা বা পশুচিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা যদি সৎ বিশ্বাসে (Good faith) তাদের পেশার প্রয়োজনে বিষ ব্যবহার করেন, তবে তা এই আইনের আওতামুক্ত থাকে [১.৩.৭, ১.৫.৫]।
The Mobile Court Act 2009 কি ?
মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (The Mobile Court Act, 2009) হলো বাংলাদেশের একটি বিশেষ আইন, যা জনস্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রমকে আরও দক্ষ ও দ্রুত করার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে [১.১.২, ১.৩.২]। এই আইনের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের (Executive Magistrates) ঘটনাস্থলেই নির্দিষ্ট কিছু অপরাধ আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিচার ও সাজা দেওয়ার সীমিত ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে [১.১.৫, ১.২.১]।
এই আইনের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- পরিচালনার উদ্দেশ্য: মূলত ভেজাল খাদ্য বিরোধী অভিযান, ইভটিজিং প্রতিরোধ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, বাল্যবিবাহ বন্ধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো সামাজিক অপরাধ দমনে এই আদালত পরিচালিত হয় [১.২.৪, ১.৪.২]।
- বিচারের প্রক্রিয়া: এই আদালত সাধারণত অপরাধ স্বীকারোক্তির (Confession) ভিত্তিতে বিচার করে [১.৩.৩]। অপরাধী তার দোষ স্বীকার করলে ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে দণ্ডাদেশ প্রদান করেন [১.১.৮, ১.৪.৬]।
- সাজা প্রদানের ক্ষমতা: এই আইনের আওতায় একজন ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ ২ (দুই) বছরের কারাদণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট আইনে নির্ধারিত অর্থদণ্ড আরোপ করতে পারেন [১.১.১, ১.৩.২]।
- প্রয়োগের ক্ষেত্র: এই আইনের তফসিলে (Schedule) বর্ণিত বিভিন্ন আইনের (যেমন: দণ্ডবিধি ১৮৬০, বিএসটিআই অধ্যাদেশ, মটরযান অধ্যাদেশ ইত্যাদি) অধীনে সংঘটিত অপরাধের বিচার মোবাইল কোর্ট করতে পারে [১.২.৪, ১.৪.৩]।
- আপিল ব্যবস্থা: মোবাইল কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা জজ আদালতে আপিল করার সুযোগ পান [১.৩.২, ১.৩.৭]।
The Consumers’ Right Protection Act 2009 কি ?
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ (The Consumers’ Right Protection Act 2009) বাংলাদেশে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা, পণ্য বা সেবার গুণমান নিশ্চিতকরণ, এবং ভোক্তা-অধিকার বিরোধী কার্য প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রণীত একটি বিশেষ আইন [১, ১১]। এটি ৬ এপ্রিল ২০০৯-এ কার্যকর হয় এবং এর অধীনে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও পরিষদ গঠিত হয়েছে [৬, ৮]।
আইনটির প্রধান দিকসমূহ:
- উদ্দেশ্য: ভেজাল, প্রতারণা, অতিরিক্ত মূল্য গ্রহণ, এবং মিথ্যা বিজ্ঞাপন রোধ করে ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা [২, ৭]।
- অপরাধ ও শাস্তি: আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড, ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা উভয় দণ্ড হতে পারে [১০, ১৩]।
- অভিযোগ: কোনো পণ্য বা সেবা নিয়ে প্রতারিত হলে, ভোক্তা নিজে ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে মহাপরিচালক বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর অভিযোগ দায়ের করতে পারেন [৭, ৮]।
- ভোক্তার সংজ্ঞা: যারা নিজের ব্যবহারের জন্য পণ্য বা সেবা কেনেন (পুনর্বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নয়), তারা এই আইনের অধীনে ‘ভোক্তা’ হিসেবে বিবেচিত হন [৮]।
- কার্যক্রম: এই আইন অনুযায়ী অস্বাস্থ্যকর উৎপাদন, ওজনে কারচুপি, ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় [২, ১৩]।
এই আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে পণ্য ও সেবার সঠিক গুণমান বজায় রাখা এবং ভোক্তা-অধিকার বিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ করা হয় [৬]।
HRTD Medical Institute